মোহাম্মদপুরে সম্প্রতি এক চাঁদাবাজকে ধরে এলাকায় মাইকিং করে পুলিশ -ফাইল ছবি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় বর্তমানে অন্তত ১৮টি গ্রুপের প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িত এসব চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের প্রস্তুত করা তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অধিকাংশের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। তবুও তারা প্রকাশ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের তালিকা করে অভিযান শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের অন্তত ১৭টি স্পট থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শুধু চাঁদাবাজিই নয়—খুন, ছিনতাই, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, মাদক কারবার, অস্ত্রের মহড়া এবং মারধরের মতো নানা অপরাধের সঙ্গেও এসব গ্রুপ জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদাবরের বিভিন্ন ফুটপাত ও হাউজিং এলাকায় নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। জাপান গার্ডেন সিটি থেকে নুরজাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত ফুটপাতের দোকান, বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী মোড়, বালুর মাঠ, সুনিবিড় হাউজিং ও শ্যামলী হাউজিং এলাকায় দোকান ও ছোট কারখানা থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে নবোদয় হাউজিং ও বাজার এলাকাতেও মাসিক চাঁদা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এক শিক্ষার্থী জানান, এসব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললেই আতঙ্কে থাকতে হয়। সম্প্রতি কয়েকজন মিলে পুলিশকে অবহিত করলে তারা সহযোগিতা করেছে। তার দাবি, মূল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, বরং দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির নেতাকর্মীরাই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।
মোহাম্মদপুর এলাকায়ও একাধিক লেগুনা স্ট্যান্ড, সাপ্তাহিক মেলা ও ফুটপাতের দোকান থেকে নিয়মিত টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। আল্লাহ করিম মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, শ্যামলী স্কয়ার, সলিমুল্লাহ রোড, টাউন হল বাজার, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, ঢাকা উদ্যান ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হারে চাঁদা আদায়ের তথ্য মিলেছে। কোথাও দোকানপ্রতি নির্দিষ্ট টাকা, আবার কোথাও বিদ্যুৎ বিলের অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রিং রোড, শিয়া মসজিদ এলাকা, কৃষি মার্কেট ও প্রিন্স বাজার সংলগ্ন ফুটপাত ও বাজার এলাকাতেও অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলা ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।