যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
'ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র গড়তে দেওয়া হবে না': জেডি ভ্যান্স
ওয়াশিংটন ডিভিসন: ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেবে না। তবে এই সংকট সমাধানে সামরিক শক্তির চেয়ে ‘কূটনীতি’কেই প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউস।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
কূটনীতি প্রথম পছন্দ, তবে বিকল্পও খোলা
জেডি ভ্যান্স বলেন, "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না। আমরা আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে চাই। তবে যদি প্রয়োজন হয়, প্রেসিডেন্টের হাতে আরও অনেক বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, অধিকাংশ আমেরিকানই মনে করেন ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
সন্ত্রাসবাদ ও পারমাণবিক হুমকি
ইরানকে 'সন্ত্রাসবাদের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক' হিসেবে অভিহিত করে ভ্যান্স বলেন, "সামরিক পদক্ষেপ আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র যেন পারমাণবিক অস্ত্রের মাধ্যমে বিশ্বকে ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ না পায়।"
জেনেভা আলোচনা ও ওমানের মধ্যস্থতা
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেন, ইরান এই আলোচনাকে গুরুত্বের সাথে নেবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহযোগিতা করবে।
শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন প্রসঙ্গে নীরবতা
সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, চূড়ান্ত পর্যায়ে কোন পথ বেছে নেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সারকথা: ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধান খুঁজলেও, 'পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ' ইস্যুতে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ—জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে এই কঠোর বার্তাই ফুটে উঠেছে।