অনলাইন সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে মিরানশাহ এবং স্পিনওয়ামে পাকিস্তানি সামরিক ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা। আফগানিস্তানের টোলো নিউজের বরাত দিয়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অজ্ঞাত নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে টোলো নিউজ বলেছে, হামলার ফলে স্পিনওয়াম ক্যাম্পে আগুন ধরেছে। নিরাপত্তা ওই সূত্র টোলো নিউজকে বলেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
তবে আফগান বাহিনীর এসব হামলায় পাকিস্তানে কী পরিমাণ হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এর আগে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান যদি তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসলামিক এমিরেটের বাহিনীও যথাযথ ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।
তিনি বলেন, 'আমাদের হাত তাদের (পাকিস্তানের) গলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে'।
এর জবাবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে তালেবানের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান সরকারের উসকানিহীন গুলিবর্ষণের যথাযথ ও কার্যকর জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে।
২০২১ সালের অগাস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান এবং এর ফলে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন যে, দুই দেশের সীমান্তে পাকিস্তানি চেকপোস্টে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের একাধিক পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে।
এর জবাবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে তালেবানের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান সরকারের উসকানিহীন গুলিবর্ষণের যথাযথ ও কার্যকর জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় আফগান তালেবানের ৩৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে। তিনি সীমান্ত সংঘর্ষে দুই পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এবং আফগান তালেবানের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানে বিমান হামলায় সাতটি জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছিল পাকিস্তান। সামরিক সূত্র জানায়, এসব অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে।
জবাবে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পাকিস্তানি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে এসব হামলার ‘উপযুক্ত সময়ে পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়া হবে’।
২০২১ সালের অগাস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান এবং এর ফলে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
পাকিস্তান সরকার ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন টিটিপিকে (তেহরিক-এ-তালেবান পাকিস্তান) সমর্থন দিচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তবে আফগান তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দেয়।
গত বছর দুই দেশের মধ্যে হওয়া সীমান্ত সংঘর্ষের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের টানাপড়েন কমেনি। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সে তিক্ততা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষের পর প্রশ্ন হচ্ছে সামনে কী হবে? আফগান তালেবানদের সামরিক সক্ষমতা কতটুকু এবং আগামী দিনে কী ঘটতে পারে?