অনলাইন সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রবণতা জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত এক মাসে দেশ ও এর আশপাশ অঞ্চলে অন্তত ১০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। গাণিতিক হিসাবে প্রতি দুই দিনে একবার করে এই জনপদ কেঁপে উঠছে। বিশেষ করে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫.৪ মাত্রার কম্পন এবং এর আগে নভেম্বরে নরসিংদীতে অনুভূত ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: জমছে বড় শক্তি
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, ভূগর্ভস্থ প্লেট বাউন্ডারিতে প্রতিনিয়ত শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে। যখন এই সঞ্চিত শক্তি আর ধারণ করার জায়গা পায় না, তখন তা প্রবল বিস্ফোরণে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজে। বারবার ছোট বা মাঝারি মাত্রার এই কম্পনগুলো আসলে কোনো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ারই লক্ষণ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঝুঁকি
ইতিহাস বলছে, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন এই অঞ্চলে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ আঘাত হেনেছিল। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বা পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফল্ট লাইনগুলোতে প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছর পরপর ৭ মাত্রার বেশি এবং ২৫০ থেকে ১০০০ বছর পরপর ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ এখন একটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে।
নিরাপত্তায় করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়েছেন:
জনসচেতনতা: ভবন মালিকদের সচেতন করা এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতির বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
প্রকৃতির এই আগাম সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করে এখনই পরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।