মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু: আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি:
আট মিনিটের দীর্ঘ সেই ভিডিওতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমরা বারবার আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা সফল হয়নি। এখন আমরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।”
হামলার ধরন ও লক্ষ্যবস্তু:
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী আকাশ ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এই যৌথ হামলা পরিচালনা করছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা কাঠামোকে ভেঙে দেওয়া। শনিবার ভোর থেকেই তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা:
হামলার প্রেক্ষিতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছে ইরান। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মজিদ আখওয়ান মেহের নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। প্রতিবেশী দেশ ইরাকও নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
তেহরানে আতঙ্ক:
ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে যে, রাজধানীর বেশ কিছু কৌশলগত স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযানে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ আতঙ্ক বিরাজ করছে।