ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা সাময়িক নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ মার্চ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলোতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যগণ
এই তিন সদস্যের পরিষদটি সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা পালন করবে। এর সদস্যরা হলেন:
মাসুদ পেজেশকিয়ান: ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজি: ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান।
অন্তর্বর্তী পরিষদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
এই পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার প্রধান দায়িত্বগুলো পালন করবে।
পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব মূলত 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের ওপর ন্যস্ত। এই প্রক্রিয়ার ধাপগুলো হলো:
১. জরুরি অধিবেশন : সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ৮৮ সদস্যের এই পরিষদকে "যত দ্রুত সম্ভব" বৈঠকে বসতে হয়।
২. প্রার্থী বাছাই : পরিষদের একটি গোপন সাব-কমিটি আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে রাখে।
৩. যোগ্যতা যাচাই : প্রার্থীকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ (মুজতাহিদ) হতে হবে এবং তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সাহসিকতা থাকতে হবে।
৪. ভোট প্রদান : পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। যদি কোনো একক ব্যক্তি এই সমর্থন না পান, তবে পরিষদ চাইলে একাধিক সদস্যের একটি স্থায়ী 'নেতৃত্ব পরিষদ' গঠনেরও চিন্তা করতে পারে।
কারা হতে পারেন পরবর্তী নেতা?
বর্তমানে বেশ কিছু নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়নি।
মোতজাবা খামেনি : আয়াতুল্লাহ খামেনির মেজো ছেলে।
সাদিক লারিজানি : সাবেক বিচার বিভাগীয় প্রধান।
মোহাম্মদ মিরবাঘেরি : একজন প্রভাবশালী রক্ষণশীল আলেম।
হাসান খোমেনি : ইসলামি বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতি।
বর্তমানে ইসরায়েলের সাথে চলমান উত্তেজনার কারণে এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয়তার সাথে সম্পন্ন করা হতে পারে।