ছবি: বিবিসি
রমজানের ভোরে যখন সেহরির প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তখন লেবাননের বহু মানুষের সকাল শুরু হয়েছে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশের পর আজ সকালে লক্ষাধিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি শুধু দক্ষিণ লেবাননেই নয়, রাজধানী বৈরুতজুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে।
বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী দাহিয়েহ এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এলাকাটিতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। বাসিন্দারা যেটুকু সম্ভব সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ মনে হয় এমন স্থানের দিকে ছুটছেন। কারও হাতে ছোট ব্যাগ, কারও কোলে শিশু, কেউ আবার বৃদ্ধ মা বাবাকে নিয়ে পথ ধরেছেন।
দাহিয়েহ এলাকাটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালীন এবং এরপরও কয়েক দফা সেখানে হামলা হয়েছে। ওই বছরের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ, সেটি ছিল একপাক্ষিক এবং ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং লেবানন সরকার তাদের নিরস্ত্রীকরণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। খবর এনডিটিভির। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পরপরই লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা শুরু হয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর প্রজেক্টাইল ফায়ারের জবাবে তাদের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ এবং লেবানন ও এর জনগণের প্রতিরক্ষার জন্য ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির পর এই প্রথম ইসরায়েলে হামলার কথা স্বীকার করল হিজবুল্লাহ।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, প্রথমে বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, পরে তা দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর হামলা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সন্দেহজনক। হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তার সরকার দুর্বৃত্তদের থামাতে এবং লেবাননের জনগণকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
পুরো পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রমজান মাসে রোজা রাখার প্রস্তুতির বদলে তাদের এখন প্রধান চিন্তা নিরাপদ আশ্রয়।
সোর্স: আল-জাজিরা/এনডিটিভি