হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
ইয়ামেনের ইরান-সমর্থিত বাহিনী হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে, তারা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
তারা জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা করেছে তারা।
এদিকে, এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহর প্রজেক্টাইল হামলার জবাবে লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে তারা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর নিক্ষেপ করা প্রজেক্টাইল ইসরাইলি ভূখণ্ডের উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে।
হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। হামলায় আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ সোমবার (২ মার্চ ২০২৬), লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- হামলার কারণ: হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে এবং লেবাননের জনগণকে রক্ষায় তারা এই হামলা চালিয়েছে।
- লক্ষ্যবস্তু: উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত মিশমার হাকারমেল (Mishmar HaCarmel) বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে একঝাঁক উন্নত রকেট ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে বলে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে।
- ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া: হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ভূপাতিত করেছে এবং বাকিগুলো জনশূন্য স্থানে পড়েছে বলে Times of Israel জানিয়েছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।
- লেবাননে ইসরায়েলি পাল্টা হামলা: হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলী দাহিয়েহ (Dahiyeh)-তে অন্তত ১২টি শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর সবচেয়ে তীব্র বলে বর্ণনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
- গণ-উচ্ছেদ: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫৫টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ উত্তর দিকে পালাতে শুরু করেছে, যার কারণে প্রধান মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
- বর্তমান পরিস্থিতি: ইসরায়েলি হামলায় বৈরুতে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
- আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর এই রকেট হামলাকে "দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ" বলে অভিহিত করেছেন, যা দেশকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
- আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:
- লেবানন সরকার: প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই রকেট হামলাকে "দায়িত্বজ্ঞানহীন" বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে দেশটিকে নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে দেওয়া হবে না।
- জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই "সামরিক উত্তেজনার" নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
- ভারত: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।