যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ায় ‘জরুরি ব্রেক’: নিষিদ্ধ হলো ৪টি দেশ - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসন সীমিত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ৪টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসার ক্ষেত্রে 'জরুরি ব্রেক' (Emergency Brake) বা বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
এই দেশগুলো হলো:
১. আফগানিস্তান
২. ক্যামেরুন
৩. মিয়ানমার (বার্মা)
৪. সুদান
নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তথ্য:
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে:
যদিও সরকারিভাবে সরাসরি এই তালিকায় বাংলাদেশ নেই, তবে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অন্তত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' তালিকায় রেখেছে। ভিসার অপব্যবহার এবং কড়াকড়ির কারণে অনেক ক্ষেত্রে এই দুই দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন স্থগিত বা বাতিল করার খবরও পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্র বিভাগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পদক্ষেপের বিষয়ে বলেন যে, ‘যুদ্ধ ও নিপীড়নের শিকার মানুষদের ব্রিটেন সবসময়ই আশ্রয় দিয়ে আসছে, কিন্তু আমাদের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের এই উদারতাকে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন, তাঁদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভিবাসন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’-এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার চাপের মুখে পড়েছে।
এই জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নিজেদের কঠোর অবস্থান জানান দিতেই সরকার আশ্রয় প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালুর পাশাপাশি নির্বাসন প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিফর্ম ইউকে পার্টির উত্থান রোধ করা এবং স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ প্রশমনেই লেবার পার্টি সরকার এমন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ) জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার অভিবাসন বিধিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এক ভাষণে আশ্রয় প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও সংকুচিত করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট চারটি দেশের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। তবে ব্রিটেন সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বৈধভাবে আসার সুযোগ থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনস্বার্থে অভিবাসন নীতিতে কোনো আপস করা হবে না।