মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনুল কারিম।
সৃষ্টিজগতে মানুষের অনন্য অবস্থান ও সৌন্দর্য কেবল শারীরিক অবয়বে নয়, বরং তার বুদ্ধিবৃত্তিক, আত্মিক ও নৈতিক গুণাবলির সমন্বয়ে গঠিত। মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিবেক ও বিচারবুদ্ধি:
অন্যান্য প্রাণীর জীবন মূলত প্রবৃত্তি (Instinct) দ্বারা চালিত, কিন্তু মানুষকে দেওয়া হয়েছে স্বাধীন ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধি। ভালো-মন্দের পার্থক্য করার এই ক্ষমতাই মানুষকে নৈতিক সত্তা হিসেবে অনন্য করে তুলেছে।
২. জ্ঞানের আধার ও সৃজনশীলতা:
মানুষ কেবল প্রকৃতির দান গ্রহণ করে না, বরং প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করে। ভাষা, বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ সভ্যতা গড়ে তুলেছে, যা অন্য কোনো প্রজাতির পক্ষে সম্ভব হয়নি।
৩. আত্মিক সৌন্দর্য ও মহানুভবতা:
মানুষের আসল সৌন্দর্য তার চরিত্রে। দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা এবং ত্যাগের মতো গুণাবলি মানুষের আত্মাকে মহিমান্বিত করে। অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া এবং পরোপকারের মানসিকতা মানুষকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' বা সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা দেয়।
৪. দৈহিক গঠন ও সুষমা:
মানুষের ঋজু ভঙ্গি (সোজা হয়ে দাঁড়ানো), সুনিপুণ হাত এবং চেহারার অভিব্যক্তি তাকে এক অনন্য নান্দনিকতা দান করেছে। মানুষের হাসি এবং চোখের ভাষা মনের গভীর ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম, যা এক বিস্ময়কর সৌন্দর্য।
৫. অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা:
মানুষই একমাত্র প্রাণী যে মহাকাশের রহস্য থেকে শুরু করে নিজ অস্তিত্বের গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধান চালায়। এই কৌতূহল এবং অসীমের পানে ছুটে চলাই তাকে সৃষ্টির শিখরে স্থান দিয়েছে।
সারকথা:
মানুষের অনন্যতা তার দেহ আর মনের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে। যখন একজন মানুষ তার মেধা ও বিবেককে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং নৈতিকতায় বলীয়ান হয়, তখনই তার প্রকৃত সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণতা পায়।
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
আরবী উচ্চারণঃ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
বাংলা উচ্চারণঃ "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"
বাংলা অর্থঃ পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আরবী আয়াত: وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا
বাংলা উচ্চারণ:
ওয়ালাকাদ কাররামনা-বানীআ-দামা ওয়া হামালনা-হুম ফিল বাররি ওয়াল বাহরি ওয়া রাঝাকনা-হুম মিনাততাইয়িবা-তি ওয়া ফাদ্দালনা-হুম 'আলা কাছীরিম মিম্মান খালাকনা- তাফদীলা-।
বাংলা অর্থ:
"আর আমি অবশ্যই আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি, তাদের জন্য স্থলে ও সমুদ্রে চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদেরকে পবিত্র রিযক দিয়েছি এবং আমি তাদেরকে আমার অধিকাংশ সৃষ্টির ওপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি"