লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী স্থল অভিযানের পাশাপাশি বিমান ও কামানের হামলা অব্যাহত রেখেছে। ৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি পদাতিক, সাঁজোয়া ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সাথে তাদের সরাসরি সংঘর্ষ চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল ঘটনাসমূহ:
- স্থল অভিযান ও বাফার জোন: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য তারা লেবাননের ভেতরে একটি 'নিরাপত্তা অঞ্চল' বা বাফার জোন' তৈরি করছে। তিনটি ডিভিশনের সৈন্যরা দক্ষিণ লেবাননের খিয়ামসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
- আকাশপথ ও কামানের হামলা: স্থল অভিযানের সমান্তরালে দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা উপত্যকার অর্ধশতাধিক শহরে বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ চলছে । এই হামলাগুলোতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধুমাত্র ২ মার্চেই অন্তত ৫২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
- হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ: হিজবুল্লাহও ইসরায়েল এবং অধিকৃত গোলান মালভূমির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
- আঞ্চলিক উত্তেজনা: এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট আরও বিস্তৃত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সরাসরি উত্তেজনার ফলে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ওই অঞ্চলে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে।
- যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও ইসরায়েল দাবি করছে হিজবুল্লাহ পুনরায় সশস্ত্র হওয়ার চেষ্টা করছে, যার ফলে তারা হামলা অব্যাহত রেখেছে।
নিরাপত্তা জনিত কারণে বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।