সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যামটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় ভরা সেচ মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েছেন আশপাশের কয়েক হাজার কৃষক। ড্যামের রাবারের একটি অংশ ফুটো হয়ে যাওয়ায় নদীর পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বোরো মৌসুমে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা।
তবে কৃষকদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ড্যামটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে রাবার প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দিনাজপুর সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় আত্রাই নদীর ওপর ১৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া ড্যামটির মাধ্যমে প্রায় ২৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৮০টি গ্রামের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। খরা মৌসুমে ড্যামের রাবার ফুলিয়ে আত্রাই নদীর পানি ধরে রেখে কৃষিকাজে সেচ দেওয়া হতো।
কিন্তু গত তিন বছর ধরে ড্যামটির দুটি স্থানে প্রায় চার ফুট জায়গাজুড়ে রাবার ফুটো হয়ে আছে। ফলে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়ছেন কৃষকরা।
চিরিরবন্দর উপজেলার ভাবকী গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রতি বছর আত্রাই নদীর আটকানো পানি দিয়েই চাষাবাদ করেন। কিন্তু এবার ড্যাম নষ্ট থাকায় নদীতে পানি নেই। পানির অভাবে জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
মোহনপুর এলাকার কৃষক সাহের আলী বলেন, গত তিন থেকে চার বছর ধরেই এ অবস্থা চলছে। পানি ধরে রাখা না যাওয়ায় বেশি খরচ করে শ্যালো মেশিন বসিয়ে সেচের পানি নিতে হচ্ছে।
বর্তমানে চীন থেকে আনা নতুন রাবার প্রতিস্থাপনের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন’। প্রতিষ্ঠানটির টেকনিশিয়ান আকবর আলী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, চীন থেকে আনা নতুন রাবার বসিয়ে ড্যামটি মেরামত করা হচ্ছে। মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এলজিইডি দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রকৌশলী রিশাদ জামান বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এলাকায় কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু তিন বছর ধরে রাবার ফুটো থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রুত কাজ শেষ করে আবারও ড্যামটি সচল করা হবে।
এলজিইডির তথ্যমতে, কৃষিনির্ভর দিনাজপুরে সেচ সংকট নিরসনে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়।