"১৬ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাণিজ্য তদন্ত শুরু: তালিকায় বাংলাদেশও"
বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু:মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
"অতিরিক্ত উৎপাদন ও শ্রম অধিকার ইস্যুতে চাপে বিশ্ব বাণিজ্য; জুলাইয়ের মধ্যে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত"
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত শুরু - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে একটি নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে । ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR) ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার অধীনে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তদন্তের মূল বিষয়বস্তু ও প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
- তদন্তের কারণ: মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করেছে যে, এই দেশগুলোর নীতি ও উৎপাদন পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী পণ্য উদ্বৃত্ত বা "excess capacity" তৈরি করছে, যা আমেরিকার নিজস্ব উৎপাদন খাতের জন্য ক্ষতিকর।
- তদন্তাধীন অন্যান্য দেশ: বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে
চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU),ভারত, জাপা্ দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিক্ ভিয়েতনাম, তাইওয়া্ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়্ কম্বোডিয়া, থাইল্যান্, সিঙ্গাপু্,সুইজারল্যান্ড এবং নরওয়ে।
- সম্ভাব্য প্রভাব: তদন্তে যদি কোনো দেশের বাণিজ্য পদ্ধতিকে "অন্যায্য" হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা পেনাল্টি আরোপ করতে পারে।
- সময়সীমা: মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতে এই বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ।
- বাধ্যতামূলক শ্রম সংক্রান্ত তদন্ত: এর পাশাপাশি প্রায় ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে পণ্য উৎপাদনে বাধ্যতামূলক শ্রম (forced labor) ব্যবহারের অভিযোগে পৃথক আরেকটি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই তদন্ত এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে, যার মাধ্যমে রপ্তানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন এই তদন্তের ফলে সেই শুল্ক সুবিধার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।