"তেলের বাজারে অস্থিরতা: সংকটের সমাধান কি কেবল আমদানিতেই?"
জ্বালানি তেলের দৌড়ঝাঁপ: আমদানির বিকল্প খোঁজা কতটা কঠিন।
ডলার সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় ব্যাহত আমদানি; অভ্যন্তরীণ মজুদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
তেলের খোঁজে দিশেহারা বাজার - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় একাধিক দেশ চেষ্টা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু করতে লবিং শুরু করেছে অনেক দেশ, বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হবে।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান সংকট এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে যে অস্থিরতা চলছে, তা বেশ কয়েকটি কারণে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে:
১. বৈশ্বিক অস্থিরতা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া আমাদের মতো দেশগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
২. ডলার সংকট: জ্বালানি কেনার জন্য যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) প্রয়োজন, তার ঘাটতি থাকায় সময়মতো আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) বকেয়া পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।
৩. বিকল্প উৎসের সীমাবদ্ধতা:
-
রাশিয়া ও ভারত: কম দামে রাশিয়ার তেল কেনার আলোচনা চললেও রিফাইনারি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার (আমাদের রিফাইনারিগুলো নির্দিষ্ট গ্রেডের তেলের জন্য তৈরি) কারণে তা শতভাগ সফল হয়নি। তবে ভারতের পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানি: সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো বিকল্প উৎসগুলো এখনও মোট চাহিদার খুব সামান্য অংশ মেটাতে পারছে।
৪. অভ্যন্তরীণ মজুদ ও পরিকাঠামো: দেশে তেলের মজুদ রাখার সক্ষমতা কম হওয়ায় আপদকালীন সময়ে দীর্ঘক্ষণ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চ্যালেঞ্জ উত্তরণের পথ:
সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির (G2G) মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে এবং পাশাপাশি কয়লা ও এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। তবে আসল সমাধান লুকিয়ে আছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত প্রসারে এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে।
সহজ কথায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ উৎস বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় লড়াই।