ইরান - ইসরায়েল - যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রায় ৯০ শতাংশই এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর প্রভাব বহুমাত্রিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়া: যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোতে যেখানে গত বছরও বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ হয়েছে, সেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি ধীর হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
- চাকরি হারানো ও দেশে ফেরা: যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক প্রবাসী ইতিমধ্যে দেশে ফেরার কথা ভাবছেন, আবার অনেকে জোরপূর্বক ছাঁটাই বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
- রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কা: প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধস নামতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর।
- আর্থ-সামাজিক প্রভাব: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
- সরকারি উদ্যোগ: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বিকল্প ও নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।