ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার পুনরায় বিদেশি ঋণের উৎস খুঁজছে। শুরুতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সম্প্রতি এই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।
প্রকল্পটির বর্তমান পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
- ঋণের পরিমাণ: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (AIIB) এর কাছে ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ চেয়েছে। এছাড়া ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) থেকেও ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানা গেছে।
- বাজেট সহায়তা: সরাসরি প্রকল্প ঋণের পাশাপাশি সরকার আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছ থেকে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছে।
- বিকল্প উদ্যোগ: ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর সাথেও জ্বালানি সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
- প্রকল্পের লক্ষ্য: নতুন এই ইউনিটটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের ক্ষমতা বাড়বে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বছরে প্রায় ২৫ কোটি ডলার সাশ্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- বর্তমান অবস্থা: ডলারের বিনিময় হারের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। ঋণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইআরএলের বার্ষিক পরিশোধনক্ষমতা বর্তমান ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পরিশোধনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা গেলে দেশে জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। এ ছাড়া পরিবেশসহায়ক জ্বালানি তেল উৎপাদন এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি-নির্ভরতা কমবে। মজুতের ক্ষমতাও বাড়বে।
সালফার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চাপঃ
জ্বালানি তেল পরীক্ষা করা দুটি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষায় দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সালফার পাওয়া গেছে।
দুটি সংস্থার পরীক্ষায় কিছু নমুনায় জ্বালানি তেলে সালফার নির্ধারিত মাত্রা, অর্থাৎ ৩৫০ পিপিএমের (পার্টস পার মিলিয়ন) নিচে পাওয়া গেছে। কিছু নমুনায় পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৪৮ থেকে ২ হাজার ৮০০ পিপিএম পর্যন্ত।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানিনিরাপত্তা বাড়ানো, পরিবেশসহায়ক জ্বালানি তেল উৎপাদন এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইআরএলের পরিশোধনক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে।