মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
আসছে মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোনঃ
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লুকাস’ ড্রোনটি মূলত ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের একটি উন্নত ও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। শাহেদ ড্রোনগুলো সাশ্রয়ী এবং আত্মঘাতী হামলার জন্য কুখ্যাত হলেও, ‘লুকাস’ ড্রোনে যুক্ত করা হয়েছে উচ্চতর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানার ক্ষমতা এবং জ্যামিং প্রতিরোধক প্রযুক্তি। এটি আকারে ছোট কিন্তু ধ্বংসক্ষমতায় বহুগুণ বেশি কার্যকর হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক চমকঃ
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ড্রোন প্রকল্পের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ বিনিয়োগ ও পরিচালনা। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই নতুন ড্রোন প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারে বড় ভূমিকা রাখছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এই ড্রোনের আধিপত্য তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
কেন এই পাল্টাপাল্টি লড়াইঃ?
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইরানের শাহেদ ড্রোন রাশিয়ার জন্য তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মিত্রদের হাতে শাহেদের চেয়েও সস্তা অথচ অধিক কার্যকর কোনো ড্রোন তুলে দিতে পারছিল না যুক্তরাষ্ট্র। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই ‘লুকাস’ ড্রোনের আবির্ভাব। সমরবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে লুকাস ড্রোনের চাহিদা ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি ইরানের ড্রোন বাজারের বড় অংশ দখল করে নেবে।
বিতর্ক ও সম্ভাবনাঃ
প্রতিরক্ষা শিল্পে ট্রাম্প পরিবারের এই সরাসরি অন্তর্ভুক্তি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার লড়াইয়ে থাকাকালীন এ ধরণের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে। তবে সমর্থকদের দাবি, এটি মার্কিন প্রযুক্তির জয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।