আজ ২৬ মার্চ ২০২৬: দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পথে বাংলাদেশ। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চলতি বছরের মার্চের প্রথম ২৪ দিনেই দেশে এসেছে ৩০০ কোটি বা ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের এই অভাবনীয় সাড়ায় চলতি মাসে মাসিক রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক তৈরি হতে যাচ্ছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানের এক নজরে:
- ২৪ দিনের মোট আয়: ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭,২১০ কোটি টাকা)।
- দৈনিক গড় আয়: প্রায় ১২ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার।
- প্রবৃদ্ধির হার: গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৯% বেশি।
- অর্থবছরের সঞ্চিতি: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট আয় পৌঁছেছে ২,৫০৪ কোটি ডলারে (২৫.৫ বিলিয়ন), যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০.১% বেশি।
রেকর্ড গড়ার পেছনে মূল কারণ:
- ঈদকেন্দ্রিক ব্যয়: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের কেনাকাটা ও উৎসবের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন।
- সরকারি প্রণোদনা: বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারের ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে উৎসাহিত করছে।
- হুণ্ডিবিরোধী কড়াকড়ি: অবৈধ হুণ্ডি চ্যানেলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ডলারের বিনিময় হার ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় হুন্ডির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ব্যাংকগুলোর অবদান:
তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক প্রবাসী আয় আহরণে শীর্ষস্থানে রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে চলতি মার্চ শেষে প্রবাসী আয় ৩৫০ কোটি ডলার অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা হবে একক মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের নতুন রেকর্ড। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।