হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা চলাচল শুল্ক আদায় শুরু করেছে ইরান - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
তেহরান, ২৮ মার্চ ২০২৬: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা চলাচল শুল্ক আদায় শুরু করেছে ইরান। জাহাজ চলাচলের এই নতুন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও শিপিং বিশেষজ্ঞরা ‘তেহরান টোল বুথ’ (Tehran Toll Booth) হিসেবে অভিহিত করছেন।
জাহাজপ্রতি ‘ট্রানজিট ফি’ এর পরিমাণঃ
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইরান প্রতিটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত ফি আদায় করছে। অন্তত দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রদান করে প্রণালি পার হয়েছে বলে জানা গেছে।
টোল আদায়ের প্রক্রিয়া ও কারণঃ
- নিয়ন্ত্রণ: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাহাজগুলোকে এখন একটি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে যেতে হচ্ছে এবং সেখানে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন ও ছাড়পত্র (ক্লিয়ারেন্স কোড) নিতে হচ্ছে।
- আইনি ভিত্তি: ইরান সরকার এই ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কাঠামো দিতে দেশটির পার্লামেন্টে একটি বিল পাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের যুক্তি হলো, যেহেতু ইরান এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, সেহেতু চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি নেওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
- যুদ্ধের খরচ: ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি জানিয়েছেন, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়নির্বাহের জন্যই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
বিশেষ ছাড় ও প্রভাবঃ
- ছাড়প্রাপ্ত দেশ: বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, চীন, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজগুলোকে এই টোল ছাড়াই যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
- মুদ্রা: ইতিমধ্যে কিছু জাহাজ তাদের ফি সরাসরি চীনা মুদ্রায় (ইউয়ান) পরিশোধ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বিশ্ব অর্থনীতি: বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই পথে এমন বিধিনিষেধ জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই প্রণালি উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।