সামরিক জোট ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ন্যাটো সদস্যরা যথাযথ ভূমিকা পালন না করায় তিনি এই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত এক বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “তারা আমাদের পাশে না থাকলে আমরা কেন তাদের পাশে থাকব? তারা তো আমাদের পাশে ছিলই না”।
বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- আর্থিক বোঝা: ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটোর সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকতাম, কিন্তু এখন তাদের কার্যকলাপে মনে হয় আমাদের আর থাকার প্রয়োজন নেই”।
- সহযোগিতার অভাব: এক মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থনের অভাব নিয়ে বারবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্রদেশগুলো যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি একে ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেন]।
- ন্যাটোকে কটাক্ষ: ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প তাদের ‘ভীরু’ বলে আখ্যা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ (Paper Tiger) হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই অনাগ্রহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।