জ্বালানি সংকটে স্থবির জনজীবন - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
মহাসড়কের চিত্র:
রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের সংযোগ রক্ষাকারী মহাসড়কগুলোতে আজ সকাল থেকেই যানবাহনের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। তেলের অভাবে শত শত ট্রাক ও বাস টার্মিনালে বসিয়ে রাখা হয়েছে। হাতেগোনা যে কয়েকটি যানবাহন চলছে, সেগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ছিল অসহনীয়। দূরপাল্লার বাস চলাচল কমে যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিবহন মালিকরা জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়েই তারা গাড়ি বন্ধ রাখছেন।
কৃষিতে অশনিসংকেত:
সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। এখন বোরো আবাদের ভরা মৌসুম, যেখানে ধান গাছের বৃদ্ধির জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেচের প্রয়োজন। কিন্তু ডিজেল সংকটে অধিকাংশ সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে আছে। কৃষকরা ক্যানিস্টার হাতে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, "মাঠের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে পানি দিতে না পারলে এবার ফলন অর্ধেকও হবে না।" অনেক এলাকায় তেলের চড়া দাম এবং দুষ্প্রাপ্যতার কারণে সেচ খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ কৃষকের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা:
পরিবহন সংকটের কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে আসা সবজি ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম আরেক দফা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
জ্বালানি বিভাগ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। আমদানিতে জটিলতা নাকি মজুদদারদের কারসাজি—এই সংকটের প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।