ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী বার্তার পর বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে সবথেকে জোরালো প্রতিবাদ এসেছে চীনের পক্ষ থেকে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাতের এই বিস্তার কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না উল্লেখ করে চীন অবিলম্বে সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিং মনে করে, চলমান অস্থিরতার মূলে রয়েছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলা। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকেই সরাসরি দায়ী করেছে চীন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা তাদের লক্ষ্য নয়, বরং দেশটির সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা ও সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াই তাদের আসল উদ্দেশ্য। হরমুজ প্রণালী নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে ট্রাম্প দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই যুদ্ধে তিনি কোনোভাবেই মিত্রদের বিপদে পড়তে দেবেন না।