তেহরানে শতাব্দী প্রাচীন চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর জানান, হামলায় ২৩ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই বিশাল কমপ্লেক্সটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরিগুলো—যেখানে কোভিড-১৯, জলাতঙ্ক (Rabies), মাঙ্কিপক্স, ম্যালেরিয়া এবং প্লেগের মতো মারাত্মক রোগের ওপর গবেষণা ও রোগ নির্ণয় চলত—সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ভবনের একাংশ ধসে পড়তে এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হতে দেখা গেছে।
হতাহতের খবর:
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কোনো অনুষদ সদস্য, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা নিহত হননি। তবে ভবনের ভেতরে থাকা মূল্যবান নথি এবং কয়েক দশকের গবেষণালব্ধ তথ্য ও নমুনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে "আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত" এবং জেনেভা কনভেনশনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। পাস্তুর ইনস্টিটিউট ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি আন্তর্জাতিক পাস্তুর নেটওয়ার্কের একটি গর্বিত সদস্য।
বর্তমানে মূল ভবনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য শাখায় বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে। এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় চলা ধারাবাহিক অস্থিরতার মধ্যেই এই হামলার খবরটি সামনে এলো।