পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ‘৩০০ ফিট’ এখন আতঙ্কের অন্য নাম - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
বেপরোয়া গতি ও রেসিং:
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িল থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত দীর্ঘ এই পথে ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকায় চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। বিশেষ করে গভীর রাতে ও ছুটির দিনগুলোতে প্রাইভেটকার এবং স্পোর্টস বাইকের মধ্যে চলে গতির প্রতিযোগিতা। ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানো এখানে নিয়মিত চিত্র, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়ম ভাঙার মহোৎসব:
এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোড থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় মূল সড়কে ঢুকে পড়ছে অটোরিকশা ও রিকশার মতো ধীরগতির যান। এছাড়া উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং যত্রতত্র পথচারীদের রাস্তা পারাপার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও অলসতার কারণে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক বিভাজক টপকে রাস্তা পার হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মত:
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশস্ত রাস্তা করলেই হয় না, তার জন্য দরকার কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। ৩০০ ফিট সড়কে স্পিড ক্যামেরা ও অটোমেটিক ফাইন সিস্টেম না থাকায় চালকরা আইনের তোয়াক্কা করছেন না। এছাড়া রাতের বেলা পর্যাপ্ত সড়ক বাতির অভাব এবং সার্ভিস রোডের সংযোগস্থলে বিশৃঙ্খলাকেও তারা দায়ী করছেন।
ভীত সাধারণ মানুষ:
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মতে, এক সময় এই রাস্তাটি ছিল বিনোদনের জায়গা, কিন্তু এখন এখানে বের হওয়া মানেই আতঙ্ক। গত এক মাসে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন এবং স্পিড গান দিয়ে গতি মাপার চেষ্টা করছেন। তবে জনবল সংকট এবং চালকদের সচেতনতার অভাবই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে সিসিটিভি নজরদারি এবং গতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যদি এই গতির উন্মাদনা থামানো না যায়, তবে দৃষ্টিনন্দন এই এক্সপ্রেসওয়েটি কেবল লাশের মিছিলেই দীর্ঘ করবে বলে আশঙ্কা সাধারণ নাগরিক সমাজের।