জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু - অনলাইন সংগৃহীত ছবি
গতকাল (বুধবার) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রীষ্মকাল এবং সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরকার ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানান:
১. সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন: প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমাদের পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার এখন স্মার্ট গ্রিড এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং বা ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে জোর দিচ্ছে।"
২. জ্বালানি নিরাপত্তা: বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে পায়রা ও রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যাতে পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে।
৪. গ্রাহক সেবা ও স্মার্ট মিটার: বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং সঠিক বিলিং নিশ্চিত করতে সারা দেশে দ্রুততম সময়ে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো মানসম্মত এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। আমরা আশা করছি, চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।"
বিগত কয়েক বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অনেক এলাকায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ আসছিল। প্রতিমন্ত্রীর এই নতুন উদ্যোগ সেই সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।