সংগৃহীত ছবি
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সহায়-সম্বলহীন এক বৃদ্ধের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. রইছ মিয়া (৬৩)-এর জীবনের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছে সংগঠনটির উপজেলা শাখা।
রবিবার সকালে ধনপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বালাট ক্যাম্প সংলগ্ন বাজার এলাকায় রইছ মিয়ার হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা।
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল, চিনি, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ, লবণ, সেমাই, মুড়ি, বিস্কুট, মশার কয়েল, গায়ে মাখার সাবান, কাপড় ধোয়ার সাবান ও ওয়াশিং পাউডারসহ মোট ১৬ রকমের পণ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তাজ্জত আলী খান, জালাল খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বসুন্ধরা শুভসংঘ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সহ-সভাপতি সুস্মিতা হাজং, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, রিজিলা হাজং, শাপলা হাজং, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ সাজু, দপ্তর সম্পাদক সুমন মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সংজ্ঞিতা দেবী, ইভেন্ট সম্পাদক সবিতা দেবী, সদস্য সুস্মিতা হাজংসহ অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রইছ মিয়া ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার নিজের কোনো জমি-জমা বা পরিবার-পরিজন নেই। অন্যের দেওয়া সামান্য জায়গায় ত্রিপল ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ছোট একটি খুপড়ি ঘরে তার বসবাস। ঘরটিতে আলো-বাতাস প্রবেশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে দিন কাটান, তাও অনেক সময় অর্থের অভাবে সম্ভব হয় না।
রইছ মিয়া জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে পা সোজা করে ঘুমাতে পারেন না। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন তিনি। লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করেন। নিজের রান্না নিজেই করতে হয়। তিনি অধিকাংশ সময় আলু ভর্তা ও ভাত দিয়েই দিন পার করেন। অনেক সময় না খেয়েই রোজা রাখতে হয়েছে তাকে। ইফতার করেছেন শুধু মুড়ি আর পানি দিয়ে-যদি না প্রতিবেশীরা কিছু দেন।
তিনি জানান, তার কোনো সহায়-সম্বল নেই। এক সময় স্ত্রী ও এক কন্যাকে নিয়ে সংসার ছিল, কিন্তু বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ একা। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর তার পক্ষেও বাবার খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তা ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছে তার জীবন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করেন, তবে অর্থের অভাবে চিকিৎসা ও ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহায়তা পেয়ে আনন্দিত রইছ মিয়া সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট সবার জন্য দোয়া করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।