সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। গত সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে শুরু হওয়া মার্কিন অবরোধের পর থেকে এ পর্যন্ত ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন বাহিনী তাদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন নৌবাহিনী রেডিওর মাধ্যমে ট্যাঙ্কারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি জাহাজই নির্দেশ মেনে পিছু হটেছে এবং কোনো জাহাজেই জোরপূর্বক ওঠার প্রয়োজন পড়েনি। আটককৃত জাহাজগুলোর মধ্যে চীনের সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন 'রিচ স্টারি' নামক একটি ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করতে ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং মেরিন ও বিশেষ অপারেশন ফোর্সসহ হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত গত সপ্তাহান্তে ইরানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর অবরোধের নির্দেশ দেন। সেন্টকমের দাবি, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সব ধরনের সামুদ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণে দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার কাজ শুরু করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান নিজেই তাদের পেতে রাখা মাইনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না এবং সেগুলো সরিয়ে ফেলার সক্ষমতাও তাদের নেই। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালীটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি